চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান
বিসিএস, ব্যাংক, শিক্ষক নিয়োগ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিগত পরীক্ষার নির্ভুল সমাধান ও প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক প্রশ্ন আর্কাইভ।
বিষয় ও অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নব্যাংক
বিষয় ও নির্দিষ্ট অধ্যায় ভিত্তিক বিগত বিসিএস, ব্যাংক ও সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান পড়ুন
(ঙ) সন্ধি বিচ্ছেদ করুন: পরিচ্ছেদ, তন্মধ্যে [সহকারী রেজিস্টার - সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ২০২৬]
তন্মধ্যে = তৎ + মধ্যে
(ঘ) মূর্ধন্য-ণ বাচক দুইটি শব্দ লিখুন। [সহকারী রেজিস্টার - সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ২০২৬]
(গ) "ভাগ্য" শব্দটির দুইটি সমার্থক শব্দ লিখুন। [সহকারী রেজিস্টার - সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ২০২৬]
(খ) প্রকৃতি প্রত্যয় নির্ণয় করুন: নৈতিক, ভাবী [সহকারী রেজিস্টার - সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ২০২৬]
ভাবী = √ভাব + ণিন্ (অথবা √ভাব + ইন্)
(ক) বাগধারা দুইটির অর্থ লিখুন ও বাক্যে ব্যবহার করুন: শরতের শিশির, কড়িকাঠ গোনা [সহকারী রেজিস্টার - সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ২০২৬]
কড়িকাঠ গোনা (নিরুপায় হয়ে আলস্যে সময় কাটানো / মৃত্যুর প্রহর গোনা): চাকরি হারিয়ে লোকটি এখন ঘরে বসে কড়িকাঠ গুনছে।
ইন্টারনেট আসক্তির কুফল সম্পর্কে অবহিত করে ছোট বোনের নিকট একটি পত্র লিখুন। [সহকারী রেজিস্টার - সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ২০২৬]
ঢাকা।
স্নেহের রূপা,
আমার আদর ও ভালোবাসা নিও। আশা করি সৃষ্টিকর্তার কৃপায় ভালো আছ। গতকাল মায়ের সাথে ফোনে কথা বলে জানতে পারলাম, তুমি ইদানীং পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়েছ এবং দিনের বেশিরভাগ সময় স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে কাটাচ্ছ। বিষয়টি জেনে আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।
বর্তমান যুগে তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেট আমাদের জীবনকে সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু এর অতিরিক্ত ব্যবহার ভয়াবহ আসক্তির জন্ম দেয়। ইন্টারনেট আসক্তির ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়, চোখের দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নিদ্রাহীনতা দেখা দেয়। পাশাপাশি ভার্চুয়াল জগতে অতিরিক্ত ডুবে থাকার ফলে বাস্তব জীবনের স্বাভাবিক সম্পর্ক ও পড়াশোনায় চরম ধস নামে। তোমার সামনে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, তাই এখন সময়ের অপচয় করলে ভবিষ্যতে পস্তাতে হবে।
আমি আশা করি, তুমি আজ থেকেই অপ্রয়োজনীয় ইন্টারনেট ব্যবহার কমিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগ দেবে। অবসর সময়ে বই পড়া বা খেলাধুলার অভ্যাস গড়ে তোলো। নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নিও।
ইতি
তোমার বড় ভাই
ক
[খামের ওপর ডানদিকে প্রাপকের ঠিকানা এবং বামদিকে প্রেরকের ঠিকানা লিখতে হবে]
“সেই অস্ত্র আমাকে ফিরিয়ে দাও
যে অস্ত্র ব্যপ্ত হলে
নক্ষত্রখচিত আকাশ থেকে আগুন ঝরবে না
মনের বসতির বুকে
মুহূর্তের অগ্ন্যুৎপাত
লক্ষ লক্ষ মানুষকে করবে না পঙ্গু-বিকৃত
আমাদের চেতনা জুড়ে তারা করবেনা আর্তনাদ
সেই অস্ত্র যে অস্ত্র উত্তোলিত হলে
বার বার বিধ্বস্ত হবে না ট্রয় নগরী।”
[সহকারী রেজিস্টার - সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ২০২৬]
"কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: মানবসভ্যতার নতুন দিগন্ত" শীর্ষক একটি প্রবন্ধ রচনা করুন। [সহকারী রেজিস্টার - সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ২০২৬]
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী: ১৯৫৬ সালে জন ম্যাকার্থি সর্বপ্রথম 'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' শব্দটি ব্যবহার করেন। এটি মূলত মেশিন লার্নিং, ডিপ লার্নিং এবং নিউরাল নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত এমন এক প্রযুক্তি, যা পূর্ব অভিজ্ঞতা ও ডেটা বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।
মানবসভ্যতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবদান:
১. চিকিৎসাক্ষেত্রে: রোগ নির্ণয়, জটিল অস্ত্রোপচার (রোবোটিক সার্জারি), এবং নতুন ওষুধ আবিষ্কারে এআই বিপ্লব ঘটিয়েছে।
২. শিক্ষা ও গবেষণা: জেনারেটিভ এআই (যেমন: চ্যাটজিপিটি, জেমিনি) শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত টিউটর হিসেবে কাজ করছে এবং জটিল গবেষণাকে সহজতর করছে।
৩. কৃষি ও শিল্প: আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ফসলের রোগ নির্ণয় এবং স্বয়ংক্রিয় কলকারখানা পরিচালনায় এআই উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
৪. যোগাযোগ ও পরিবহন: চালকবিহীন গাড়ি (Self-driving car) এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দুর্ঘটনা কমাতে সাহায্য করছে।
সম্ভাব্য ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ: মুদ্রার অপর পিঠের মতো এর কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। স্বয়ংক্রিয়করণের ফলে কর্মসংস্থান হারানোর শঙ্কা, ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে গুজব ছড়ানো, সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘন বর্তমানে বড় উদ্বেগের বিষয়।
বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার অপরিহার্য। ইতোমধ্যে দেশের ব্যাংকিং, ই-কমার্স, এবং সরকারি সেবাখাতে চ্যাটবট ও অটোমেশনের ব্যবহার শুরু হয়েছে।
উপসংহার: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবসভ্যতার প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহযোগী। সঠিক নীতিমালা ও নৈতিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এর অপব্যবহার রোধ করা গেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পৃথিবীকে আরও সুন্দর, নিরাপদ ও গতিশীল করে তুলবে।