চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান

বিসিএস, ব্যাংক, শিক্ষক নিয়োগ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিগত পরীক্ষার নির্ভুল সমাধান ও প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক প্রশ্ন আর্কাইভ।

বিষয় ও অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নব্যাংক

বিষয় ও নির্দিষ্ট অধ্যায় ভিত্তিক বিগত বিসিএস, ব্যাংক ও সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান পড়ুন

বিষয় নির্বাচন করুন:
'আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী' এর অধ্যায় বা পরিচ্ছেদ:
সকল অধ্যায় বৈশ্বিক ইতিহাস: প্রাচীন সভ্যতা ও সাম্রাজ্যসমূহ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী (যুদ্ধ ও বিপ্লব) 154 বৈশ্বিক ইতিহাস: আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা (বিশ্ব পরিচিতি থেকে সম্প্রদায় ও গোয়েন্দা সংস্থা) 30 বৈশ্বিক ইতিহাস: আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা (সংবাদ মাধ্যম, দেশ পরিচিতি, রাজধানী, মুদ্রা, ভাষা ও পার্লামেন্ট) 386 বৈশ্বিক ইতিহাস: ভূ-রাজনীতি 46 আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও আন্ত:রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাসম্পর্ক 35 পরিবেশ ইস্যু ও কূটনীতি 62 আন্তর্জাতিক সংঘঠনসমূহ: জাতিসংঘ 134 আন্তর্জাতিক সংঘঠনসমূহ: আঞ্চলিক সংস্থাসমূহ, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানাদি 211 আন্তর্জাতিক সংঘঠনসমূহ: রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানাদি, বিশ্বের সাম্প্রতিক ও চলমান ঘটনা প্রবাহ 211
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী এর প্রশ্নসমূহ ✍️ শুধুমাত্র লিখিত (46 টি)
১ ✍️ লিখিত আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী আন্তর্জাতিক সংঘঠনসমূহ: আঞ্চলিক সংস্থাসমূহ, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানাদি

"ট্রানজিট" ও "ট্রান্সশিপমেন্ট" এর উপর টীকা লিখুন। [সহকারী রেজিস্টার - সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ২০২৬]

আদর্শ সমাধান ও উত্তরপত্র
ট্রানজিট (Transit): কোনো একটি দেশের যানবাহন ও পণ্য যখন নির্দিষ্ট শুল্ক বা মাশুল প্রদানের মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ হয়ে দ্বিতীয় কোনো দেশের ভূখণ্ড, জলপথ বা আকাশপথ ব্যবহার করে তৃতীয় কোনো দেশে বা নিজ দেশেরই অপর কোনো অংশে সরাসরি যাতায়াত করে, তখন তাকে ট্রানজিট বলে। ট্রানজিটের ক্ষেত্রে পণ্যবাহী যানবাহন পরিবর্তন করা হয় না; অর্থাৎ প্রথম দেশের নিজস্ব ট্রাক বা জাহাজ সরাসরি গন্তব্যে পৌঁছায়। যেমন: ভারতের কলকাতা থেকে ভারতীয় ট্রাক বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সরাসরি আগরতলায় প্রবেশ করলে তা ট্রানজিট।

ট্রান্সশিপমেন্ট (Transshipment): একটি দেশের পণ্য যখন অপর কোনো দেশের সীমান্ত বা বন্দরে এসে প্রথম দেশের যানবাহন থেকে খালাস করে দ্বিতীয় দেশের নিজস্ব যানবাহনে (ট্রাক, ট্রেন বা জাহাজ) তুলে গন্তব্যে পৌঁছানো হয়, তখন তাকে ট্রান্সশিপমেন্ট বলে। এতে স্বাগতিক দেশের পরিবহন খাত ও শ্রমিকরা সরাসরি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয় এবং জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি কম থাকে। যেমন: ভারতীয় জাহাজ চট্টগ্রাম বা মোংলা বন্দরে পণ্য খালাস করার পর তা বাংলাদেশের নিজস্ব ট্রাক বা রেলের মাধ্যমে আখাউড়া হয়ে ভারতের ত্রিপুরায় পরিবহন করা হলো ট্রান্সশিপমেন্ট।
২ ✍️ লিখিত আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও আন্ত:রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাসম্পর্ক

মানব নিরাপত্তা কী? এর প্রধান উপাদানগুলোর বিবরণ দিন। [সহকারী রেজিস্টার - সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ২০২৬]

আদর্শ সমাধান ও উত্তরপত্র
মানব নিরাপত্তা (Human Security): প্রথাগত রাষ্ট্রীয় বা সামরিক নিরাপত্তার ধারণার বাইরে গিয়ে মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার, মর্যাদা এবং সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার আধুনিক ধারণাকে 'মানব নিরাপত্তা' বলে। ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (UNDP) মানব উন্নয়ন প্রতিবেদনে ড. মাহবুব উল হক সর্বপ্রথম এই ধারণাটি সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। এর মূল ভিত্তি দুটি: 'ভয় থেকে মুক্তি' (Freedom from fear) এবং 'অভাব থেকে মুক্তি' (Freedom from want)।

মানব নিরাপত্তার প্রধান ৭টি উপাদান:
১. অর্থনৈতিক নিরাপত্তা (Economic Security): প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক আয়ের নিশ্চয়তা এবং দারিদ্র্য ও বেকারত্ব থেকে মুক্তি।
২. খাদ্য নিরাপত্তা (Food Security): সকল মানুষের জন্য সবসময় নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের লভ্যতা ও ক্রয়ক্ষমতা থাকা।
৩. স্বাস্থ্য নিরাপত্তা (Health Security): সংক্রামক ও অসংক্রামক ব্যাধি থেকে সুরক্ষা এবং সুলভে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার।
৪. পরিবেশগত নিরাপত্তা (Environmental Security): জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বায়ু ও পানি দূষণ থেকে মানুষের আবাসস্থল ও প্রকৃতিকে রক্ষা করা।
৫. ব্যক্তিগত নিরাপত্তা (Personal Security): সহিংসতা, অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, পারিবারিক নির্যাতন এবং শারীরিক নিপীড়ন থেকে ব্যক্তির সুরক্ষা।
৬. সম্প্রদায়গত নিরাপত্তা (Community Security): জাতিগত, ধর্মীয় বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিচয়ের সুরক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।
৭. রাজনৈতিক নিরাপত্তা (Political Security): রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন থেকে মুক্তি, মৌলিক মানবাধিকার ও ভোটাধিকার সংরক্ষণ।
৩ ✍️ লিখিত আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী বৈশ্বিক ইতিহাস: প্রাচীন সভ্যতা ও সাম্রাজ্যসমূহ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী (যুদ্ধ ও বিপ্লব)

"আরব বসন্ত" কী? এর মূল কারণগুলো আলোচনা করুন। [সহকারী রেজিস্টার - সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ২০২৬]

আদর্শ সমাধান ও উত্তরপত্র
আরব বসন্ত (Arab Spring): ২০১০ সালের শেষের দিকে তিউনিসিয়ায় শুরু হয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার আরব দেশগুলোতে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে যে গণঅভ্যুত্থান, বিক্ষোভ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছিল, তাকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে 'আরব বসন্ত' বলা হয়। ২০১০ সালের ১৭ ডিসেম্বর তিউনিসিয়ার ফেরিওয়ালা মোহাম্মদ বুয়াজিজির আত্মাহুতির মাধ্যমে এর সূচনা হয় এবং তা মিশর, লিবিয়া, ইয়েমেন, সিরিয়া ও বাহরাইনে ছড়িয়ে পড়ে।

আরব বসন্তের মূল কারণসমূহ:
১. দীর্ঘস্থায়ী স্বৈরশাসন ও একনায়কতন্ত্র: দশকের পর দশক ধরে জয়নাল আবেদিন বেন আলী (তিউনিসিয়া), হোসনি মোবারক (মিশর) ও মুয়াম্মার গাদ্দাফির (লিবিয়া) মতো শাসকদের একচ্ছত্র দমন-পীড়ন ও গণতন্ত্রহীনতা।
২. চরম দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি: রাষ্ট্রীয় সম্পদ শাসকগোষ্ঠীর কুক্ষিগত হওয়া এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে লাগামহীন দুর্নীতি।
৩. বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকট: শিক্ষিত যুবসমাজের মধ্যে তীব্র বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি।
৪. মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বাকস্বাধীনতা হরণ: জরুরি আইন জারি রেখে নাগরিক অধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করা।
৫. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা: ফেসবুক, টুইটার ও ইউটিউবের মাধ্যমে তরুণ সমাজ দ্রুত সংগঠিত হতে এবং বিশ্ববাসীর কাছে সরকারি নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছিল।
৪ ✍️ লিখিত আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী বৈশ্বিক ইতিহাস: আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা (সংবাদ মাধ্যম, দেশ পরিচিতি, রাজধানী, মুদ্রা, ভাষা ও পার্লামেন্ট)

বিশ্বে প্রথম নির্বাচিত মহিলা প্রধানমন্ত্রীর নাম কি? [উচ্চমান সহকারী - বিনা ২০২৬]

আদর্শ সমাধান ও উত্তরপত্র
শ্রীমাভো বন্দরনায়েকে (শ্রীলঙ্কা)।
৫ ✍️ লিখিত আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী বৈশ্বিক ইতিহাস: ভূ-রাজনীতি

হরমুজ প্রণালী কোন দুটি জলভাগকে যুক্ত করেছে? [উচ্চমান সহকারী - বিনা ২০২৬]

আদর্শ সমাধান ও উত্তরপত্র
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে।
৬ ✍️ লিখিত আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী আন্তর্জাতিক সংঘঠনসমূহ: রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানাদি, বিশ্বের সাম্প্রতিক ও চলমান ঘটনা প্রবাহ

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে মোট কতটি ভেন্যুতে খেলা হয়েছে? [উচ্চমান সহকারী - বিনা ২০২৬]

আদর্শ সমাধান ও উত্তরপত্র
১৬ টি ভেন্যুতে (১৬টি শহরে)।
৭ ✍️ লিখিত আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী আন্তর্জাতিক সংঘঠনসমূহ: আঞ্চলিক সংস্থাসমূহ, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানাদি

সার্কের প্রথম নারী চেয়ারপারসন এর নাম লিখুন। [উচ্চমান সহকারী - বিনা ২০২৬]

আদর্শ সমাধান ও উত্তরপত্র
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি ১৯৯৩ সালে সার্কের চেয়ারপারসন হন।
৮ ✍️ লিখিত আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী আন্তর্জাতিক সংঘঠনসমূহ: আঞ্চলিক সংস্থাসমূহ, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানাদি

BIMSTEC-এর পূর্ণাঙ্গরূপ লিখুন। এর অচলাবস্থা নিরসনে কী উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে? [মেডিকেল অফিসার - সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ২০২৬]

আদর্শ সমাধান ও উত্তরপত্র
BIMSTEC-এর পূর্ণাঙ্গরূপ হলো: Bay of Bengal Initiative for Multi-Sectoral Technical and Economic Cooperation.

অচলাবস্থা নিরসনে করণীয় উদ্যোগসমূহ:
১. মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) চূড়ান্তকরণ: সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা বিমসটেক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন করা।
২. কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি: বিমসটেক মাস্টার প্ল্যানের আওতায় সড়ক, রেল ও সমুদ্রপথে (Coastal Shipping) নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ স্থাপন করা।
৩. নিয়মিত শীর্ষ সম্মেলন: নির্ধারিত সময়ে শীর্ষ সম্মেলন ও মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা।
৪. মিয়ানমার সংকট ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা: সদস্য দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ সংকট ও রোহিঙ্গা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি করা এবং ঢাকায় অবস্থিত বিমসটেক সচিবালয়কে আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও শক্তিশালী করা।
৯ ✍️ লিখিত আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী আন্তর্জাতিক সংঘঠনসমূহ: রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানাদি, বিশ্বের সাম্প্রতিক ও চলমান ঘটনা প্রবাহ

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যত কী? আলোচনা করুন। [মেডিকেল অফিসার - সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ২০২৬]

আদর্শ সমাধান ও উত্তরপত্র
দীর্ঘস্থায়ী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বর্তমানে একটি জটিল ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক অচলাবস্থায় (War of Attrition) রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সামরিক সহায়তা পরিবর্তনের সম্ভাবনা এবং উভয় পক্ষের বিপুল মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণে যুদ্ধটি ধীরে ধীরে কূটনৈতিক সমঝোতার দিকে এগোতে পারে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং দখলকৃত অঞ্চলগুলোর (যেমন- দনবাস ও ক্রিমিয়া) নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কঠিন দরকষাকষি হবে। তবে কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি না হলে এটি একটি 'ফ্রোজেন কনফ্লিক্ট' (Frozen Conflict) বা দীর্ঘমেয়াদি অমীমাংসিত সংকটে পরিণত হতে পারে।
১০ ✍️ লিখিত আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী আন্তর্জাতিক সংঘঠনসমূহ: আঞ্চলিক সংস্থাসমূহ, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানাদি

ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক আরোপিত সাম্প্রতিক ট্যারিফ নীতিমালা বৈশ্বিক বাণিজ্যে কিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে? আলোচনা করুন। [মেডিকেল অফিসার - সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ২০২৬]

আদর্শ সমাধান ও উত্তরপত্র
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির অংশ হিসেবে চীনসহ বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক (Tariff) আরোপ বৈশ্বিক বাণিজ্যে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে:
১. বাণিজ্য যুদ্ধ (Trade War): চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও মেক্সিকো পাল্টা শুল্ক আরোপ করলে বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হবে।
২. সাপ্লাই চেইন বিঘ্নিত হওয়া: বিশ্বব্যাপী উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা (Supply Chain) বাধাগ্রস্ত হবে এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলো কারখানা স্থানান্তরে বাধ্য হবে।
৩. বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি: আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়লে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে পড়বে।
৪. উন্নয়নশীল দেশের ওপর প্রভাব: চীনের ওপর অতিরিক্ত শুল্কের ফলে তৈরি পোশাকের মতো খাতে বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বৃদ্ধির কিছু সুযোগ তৈরি হলেও, সার্বিক বৈশ্বিক মন্দা ও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকিও বাড়বে।
১১ ✍️ লিখিত আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী আন্তর্জাতিক সংঘঠনসমূহ: আঞ্চলিক সংস্থাসমূহ, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানাদি

SAARC পুনরুজ্জীবনে বাংলাদেশ ও ভারতের ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করুন। [মেডিকেল অফিসার - সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ২০২৬]

আদর্শ সমাধান ও উত্তরপত্র
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (SAARC) ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হলেও ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনার কারণে ২০১৬ সাল থেকে সংস্থাটির শীর্ষ সম্মেলন স্থবির হয়ে আছে। উদ্যোক্তা দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সর্বদা সার্কের পুনরুজ্জীবনের পক্ষে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, সংযোগ ও জলবায়ু মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ নেওয়া যায়। অন্যদিকে, সীমান্ত ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানের সাথে বিরোধের কারণে ভারত বর্তমানে সার্কের চেয়ে বিমসটেক (BIMSTEC)-কে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। সার্ককে কার্যকর করতে হলে ভারতের নমনীয় অবস্থান এবং বাংলাদেশের সক্রিয় কূটনৈতিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক বিরোধের ঊর্ধ্বে উঠে আঞ্চলিক সহযোগিতাকে প্রাধান্য দিতে হবে।
১২ ✍️ লিখিত আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী আন্তর্জাতিক সংঘঠনসমূহ: রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানাদি, বিশ্বের সাম্প্রতিক ও চলমান ঘটনা প্রবাহ

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে ভারত, চীন ও জাতিসংঘের ভূমিকা সম্বন্ধে আলোচনা করুন। [মেডিকেল অফিসার - সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ২০২৬]

আদর্শ সমাধান ও উত্তরপত্র
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আঞ্চলিক পরাশক্তি চীন, ভারত এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চীনের ভূমিকা: মিয়ানমারের সাথে চীনের গভীর অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। চীন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে প্রত্যাবাসন উদ্যোগের মধ্যস্থতা করেছে, তবে রাখাইনে নিজেদের কৌশলগত স্বার্থের কারণে মিয়ানমারের ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগ থেকে বিরত থেকেছে।

ভারতের ভূমিকা: ভারত মানবিক সহায়তা ('অপারেশন ইনসানিয়াত') প্রদান করলেও মিয়ানমারে নিজেদের 'অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি' ও কালাদান প্রকল্পের স্বার্থে কৌশলী ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখেছে।

জাতিসংঘের ভূমিকা: জাতিসংঘ শুরু থেকেই মানবিক সহায়তা প্রদান, মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) মিয়ানমারের বিচার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করছে। তবে নিরাপত্তা পরিষদে পরাশক্তিগুলোর ভেটো ক্ষমতার কারণে জাতিসংঘ মিয়ানমারের ওপর কার্যকর কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে পারেনি।