নবায়নযোগ্য জ্বালানি এমন এক শক্তির উৎস, যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে জ্বালানির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস যেমন: সূর্যের আলো ও তাপ, বায়ুপ্রবাহ, জলপ্রবাহ, জৈবশক্তি, সমুদ্রস্রোত, জোয়ার-ভাটা ও হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস হিসেবে বিবেচিত। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ তাদের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। বাংলাদেশও নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০০৮ প্রণয়ন করা হয়। বর্তমানে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২.০৮ শতাংশ। বিশ্বে জীবাশ্ম জ্বালানির অধিকাংশই বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ব্যবহার হচ্ছে। ফলে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে প্রবলবেগে। এতে জলবায়ুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে জলবায়ু পরিবর্তন ঘটছে। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির তথ্যমতে, নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসগুলো থেকে বিশ্বে বর্তমানে বিদ্যুতের প্রায় ৩০ শতাংশ তৈরি করা হয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানি পরিবেশবান্ধব এবং কার্বনমুক্ত। তাই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা এবং টেকসই জ্বালানি হিসেবে বিশ্বব্যাপী নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন ও ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।