মেডিকেল অফিসার - সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল

সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (৯ম গ্রেড) পদের নিয়োগ পরীক্ষা মূলত বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC)-এর অধীনে বা তাদের তত্ত্বাবধানে দুটি ধাপে হয়ে থাকে: প্রথমে বাছাই/প্রিলিমিনারি (MCQ) পরীক্ষা এবং পরবর্তীতে লিখিত ও মৌখিক/ব্যবহারিক পরীক্ষা।

পূর্ণমান: 200
প্রশ্ন: 6
সময়: 240মি.
মূল নির্দেশনা ও প্রশ্ন ৬টি সাব-প্রশ্ন
সাধারণ জ্ঞান (বিষয় কোড: ১০৪) - ক: বাংলাদেশ বিষয়াবলী - ৩ নং প্রশ্ন
উত্তর / সমাধান:
বাংলাদেশের অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীন এবং জাপান অন্যতম প্রধান দুই উন্নয়ন অংশীদার।

জাপানি বিনিয়োগের গুরুত্ব: জাপান (JICA-এর মাধ্যমে) বাংলাদেশের একক বৃহত্তম দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগী। BIG-B উদ্যোগের আওতায় ঢাকা মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর এবং আড়াইহাজারে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে জাপান বিপুল বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে।

চীনা বিনিয়োগের গুরুত্ব: বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI)-এর আওতায় চীন পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল স্থাপনে বড় ভূমিকা রেখেছে। উভয় দেশের এই বিনিয়োগ বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পায়নে অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে।
উত্তর / সমাধান:
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আঞ্চলিক পরাশক্তি চীন, ভারত এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চীনের ভূমিকা: মিয়ানমারের সাথে চীনের গভীর অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। চীন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে প্রত্যাবাসন উদ্যোগের মধ্যস্থতা করেছে, তবে রাখাইনে নিজেদের কৌশলগত স্বার্থের কারণে মিয়ানমারের ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগ থেকে বিরত থেকেছে।

ভারতের ভূমিকা: ভারত মানবিক সহায়তা ('অপারেশন ইনসানিয়াত') প্রদান করলেও মিয়ানমারে নিজেদের 'অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি' ও কালাদান প্রকল্পের স্বার্থে কৌশলী ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখেছে।

জাতিসংঘের ভূমিকা: জাতিসংঘ শুরু থেকেই মানবিক সহায়তা প্রদান, মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) মিয়ানমারের বিচার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করছে। তবে নিরাপত্তা পরিষদে পরাশক্তিগুলোর ভেটো ক্ষমতার কারণে জাতিসংঘ মিয়ানমারের ওপর কার্যকর কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে পারেনি।
উত্তর / সমাধান:
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (SAARC) ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হলেও ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনার কারণে ২০১৬ সাল থেকে সংস্থাটির শীর্ষ সম্মেলন স্থবির হয়ে আছে। উদ্যোক্তা দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সর্বদা সার্কের পুনরুজ্জীবনের পক্ষে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, সংযোগ ও জলবায়ু মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ নেওয়া যায়। অন্যদিকে, সীমান্ত ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানের সাথে বিরোধের কারণে ভারত বর্তমানে সার্কের চেয়ে বিমসটেক (BIMSTEC)-কে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। সার্ককে কার্যকর করতে হলে ভারতের নমনীয় অবস্থান এবং বাংলাদেশের সক্রিয় কূটনৈতিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক বিরোধের ঊর্ধ্বে উঠে আঞ্চলিক সহযোগিতাকে প্রাধান্য দিতে হবে।
উত্তর / সমাধান:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির অংশ হিসেবে চীনসহ বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক (Tariff) আরোপ বৈশ্বিক বাণিজ্যে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে:
১. বাণিজ্য যুদ্ধ (Trade War): চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও মেক্সিকো পাল্টা শুল্ক আরোপ করলে বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হবে।
২. সাপ্লাই চেইন বিঘ্নিত হওয়া: বিশ্বব্যাপী উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা (Supply Chain) বাধাগ্রস্ত হবে এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলো কারখানা স্থানান্তরে বাধ্য হবে।
৩. বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি: আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়লে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে পড়বে।
৪. উন্নয়নশীল দেশের ওপর প্রভাব: চীনের ওপর অতিরিক্ত শুল্কের ফলে তৈরি পোশাকের মতো খাতে বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বৃদ্ধির কিছু সুযোগ তৈরি হলেও, সার্বিক বৈশ্বিক মন্দা ও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকিও বাড়বে।
উত্তর / সমাধান:
দীর্ঘস্থায়ী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বর্তমানে একটি জটিল ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক অচলাবস্থায় (War of Attrition) রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সামরিক সহায়তা পরিবর্তনের সম্ভাবনা এবং উভয় পক্ষের বিপুল মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণে যুদ্ধটি ধীরে ধীরে কূটনৈতিক সমঝোতার দিকে এগোতে পারে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং দখলকৃত অঞ্চলগুলোর (যেমন- দনবাস ও ক্রিমিয়া) নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কঠিন দরকষাকষি হবে। তবে কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি না হলে এটি একটি 'ফ্রোজেন কনফ্লিক্ট' (Frozen Conflict) বা দীর্ঘমেয়াদি অমীমাংসিত সংকটে পরিণত হতে পারে।
উত্তর / সমাধান:
BIMSTEC-এর পূর্ণাঙ্গরূপ হলো: Bay of Bengal Initiative for Multi-Sectoral Technical and Economic Cooperation.

অচলাবস্থা নিরসনে করণীয় উদ্যোগসমূহ:
১. মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) চূড়ান্তকরণ: সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা বিমসটেক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন করা।
২. কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি: বিমসটেক মাস্টার প্ল্যানের আওতায় সড়ক, রেল ও সমুদ্রপথে (Coastal Shipping) নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ স্থাপন করা।
৩. নিয়মিত শীর্ষ সম্মেলন: নির্ধারিত সময়ে শীর্ষ সম্মেলন ও মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা।
৪. মিয়ানমার সংকট ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা: সদস্য দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ সংকট ও রোহিঙ্গা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি করা এবং ঢাকায় অবস্থিত বিমসটেক সচিবালয়কে আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও শক্তিশালী করা।