মধ্যম আয়ের দেশের বৈশিষ্ট্য কী? মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হলে বাংলাদেশকে কোন কোন সমস্যার মোকাবেলা করতে হতে পারে? আলোচনা করুন।

আদর্শ সমাধান ও উত্তরপত্র
মধ্যম আয়ের দেশের বৈশিষ্ট্য: বিশ্বব্যাংকের মাথাপিছু জাতীয় আয়ের (GNI per capita) শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী যেসব দেশের মাথাপিছু আয় নির্দিষ্ট সীমার (বর্তমানে প্রায় ১,১৪৬ ডলার থেকে ১৪,০০৫ ডলারের মধ্যে) অন্তর্ভুক্ত, সেগুলোকে মধ্যম আয়ের দেশ (নিম্ন-মধ্যম ও উচ্চ-মধ্যম) বলা হয়। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১. কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে শিল্প ও সেবাখাতনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর।
২. দারিদ্র্যের হার হ্রাস এবং মাথাপিছু আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি।
৩. উন্নত ভৌত অবকাঠামো, শিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং গড় আয়ু বৃদ্ধি।

মধ্যম আয়ের দেশ (এবং এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী) হিসেবে বাংলাদেশের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ বা সমস্যাসমূহ:
১. শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা হ্রাস: ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ উন্নত দেশগুলোতে তৈরি পোশাক ও অন্যান্য পণ্যের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত (DFQF) বা জিএসপি সুবিধা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে, ফলে রপ্তানি খাতে প্রতিযোগিতা বাড়বে।
২. সহজ শর্তে ঋণ প্রাপ্তি হ্রাস: বৈদেশিক অনুদান এবং বিশ্বব্যাংক বা এডিবির কাছ থেকে স্বল্প সুদে বা নমনীয় শর্তে (Concessional loan) ঋণ পাওয়ার সুযোগ কমে যাবে; বাণিজ্যিক হারে ঋণ নিতে হবে।
৩. মেধাস্বত্ব (TRIPS) ছাড় বাতিল: ওষুধ শিল্পে পেটেন্ট বা মেধাস্বত্ব আইনের কঠোরতা কার্যকর হলে দেশে ওষুধের উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে।
৪. মধ্যম আয়ের ফাঁদ (Middle Income Trap): দক্ষ মানবসম্পদ ও প্রযুক্তির উদ্ভাবন ঘটাতে না পারলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থবির হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।