৪৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (জেনারেল পার্ট)
৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) প্রিলিমিনারি পরীক্ষা শিক্ষা ক্যাডারের ৬৮৩টি পদের বিপরীতে বিগত ১০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে সকাল ১০:০০ টা থেকে দুপুর ১২:০০ টা পর্যন্ত মোট ২০০ নম্বরের এমসিকিউ (MCQ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৩ লাখ ১২ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন এবং এর মোট নম্বরের মধ্যে ১০০ নম্বর সাধারণ বিষয়ের ওপর এবং বাকি ১০০ নম্বর সংশ্লিষ্ট সাবজেক্টিভ বিষয়ের ওপর বরাদ্দ ছিল।
বাংলা অংশ
'পরিবার থেকেই শিক্ষার শুরু'-এখানে 'থেকে' শব্দের সাথে যুক্ত 'ই'-এর ব্যাকরণিক পরিচয় কী? [৪৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (জেনারেল পার্ট)]
বাক্যে জোর বা নির্দিষ্টতা বোঝাতে শব্দের সাথে যে বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলক (Emphatic Marker) বা পদসংকট বলা হয়। এখানে 'থেকে' অনুসর্গের সাথে 'ই' যুক্ত হয়ে জোর বা বিশেষ গুরুত্ব প্রকাশ করেছে। তাই 'ই'-এর ব্যাকরণিক পরিচয় হলো 'বলক'।
আহমদ শরীফের মতে মধ্যযুগে চণ্ডীদাস নামে কতজন কবি ছিলেন? [৪৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (জেনারেল পার্ট)]
আহমদ শরীফ ছিলেন একজন প্রখ্যাত সাহিত্য সমালোচক ও গবেষক। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে 'চণ্ডীদাস' নামে একাধিক কবির অস্তিত্ব নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে বিতর্ক চলে আসছে, যা 'চণ্ডীদাস সমস্যা' নামে পরিচিত। আহমদ শরীফ তাঁর গবেষণায় এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, 'চণ্ডীদাস' নামে মোট তিনজন কবি ছিলেন।
তিনি এই তিনজনকে চিহ্নিত করেন:
- বড়ু চণ্ডীদাস: 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচয়িতা।
- দীন চণ্ডীদাস: পদাবলীর রচয়িতা, যার পদে সহজিয়া মতবাদের প্রভাব দেখা যায়।
- দ্বিজ চণ্ডীদাস: পদাবলীর রচয়িতা, যার পদে 'দ্বিজ চণ্ডীদাস' ভণিতা পাওয়া যায়।
বিভিন্ন চণ্ডীদাসের রচনার ভাষা, ভাব ও শৈলীর ভিন্নতা বিশ্লেষণ করে আহমদ শরীফ এই তিনজনের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। তাই সঠিক উত্তর হলো 'খ' অর্থাৎ ৩ জন।
মধুসূদন দত্তের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি কে? [৪৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (জেনারেল পার্ট)]
মাইকেল মধুসূদন দত্তের পূর্ববর্তী ও আধুনিক বাংলা কবিতার সন্ধিকালের অন্যতম প্রধান কবি হলেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। তাকে 'যুগসন্ধিক্ষণের কবি' বলা হয়। তিনি 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
'এ কাজ করতে আমি বদ্ধ পরিকর'- এখানে 'পরিকর' শব্দের অর্থ কী? [মূল প্রশ্নে 'পরিবার' লেখা ছিল] [৪৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (জেনারেল পার্ট)]
'বদ্ধ পরিকর' একটি বাগধারা, যার অর্থ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এখানে 'পরিকর' শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো কোমর (অর্থাৎ কোমর বেঁধে কাজ করার জন্য প্রস্তুত হওয়া)।
'শিক্ষককে বুঝতে হবে শিক্ষার্থী কী চায়'- এই বাক্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর প্রয়োগ হয়েছে- [৪৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (জেনারেল পার্ট)]
'শিক্ষককে বুঝতে হবে শিক্ষার্থী কী চায়'—এই বাক্যে 'শিক্ষক' ও 'শিক্ষার্থী' শব্দ দুটি এককভাবে নির্দিষ্ট কোনো একজন শিক্ষক বা শিক্ষার্থীকে না বুঝিয়ে জাতি বা শ্রেণিবাচক অর্থে একবচন ও বহুবচন উভয়ই (বা সার্বিক অর্থে সাধারণ শ্রেণি) প্রকাশ করেছে। অর্থাৎ, এখানে নির্দিষ্ট কোনো একজন শিক্ষক বা শিক্ষার্থীকে না বুঝিয়ে সমগ্র শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সমাজকে বোঝানো হয়েছে, যা প্রসঙ্গভেদে উভয় বচনকেই নির্দেশ করে।
'তিনি কথা শুনে ঘুমাতে পারলেন না' - বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ কী হবে? [৪৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (জেনারেল পার্ট)]
'তিনি কথা শুনে ঘুমাতে পারলেন না' বাক্যটির ভাবগত বা অস্তিবাচক রূপ হলো 'তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন'। 'ঘুমাতে পারলেন না' অর্থাৎ তিনি সজাগ ছিলেন বা জেগে রইলেন।
কোন্ ধ্বনি পরিবর্তনটি যথাযথ নয়? [৪৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (জেনারেল পার্ট)]
'সংগীত > গীতিকা' ধ্বনি পরিবর্তনের যথাযথ নিয়ম নয়। সংগীত একটি ভিন্ন শব্দ এবং গীতিকা আরেকটি ভিন্ন শব্দ; এটি কোনো ধ্বনি পরিবর্তনের বা বিবর্তনের উদাহরণ নয়। অন্যদিকে, ক্রন্দন > কাঁদা (অপিনিহিতি/ব্যঞ্জনবিকার), অঞ্চল > আঁচল (নাসিক্যভবন), এবং দন্ত > দাঁত (অনুনাসিকরণ) সঠিক ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।
কাজী নজরুল ইসলামের কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহাঙ্গীর- [৪৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (জেনারেল পার্ট)]
কাজী নজরুল ইসলামের একটি বিখ্যাত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'কুহেলিকা' (প্রকাশকাল ১৯৩১)। এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো জাহাঙ্গীর, যিনি একজন বিপ্লবী চরিত্র। অন্যদিকে, 'বাঁধন-হারা' তাঁর প্রথম পত্রোপন্যাস এবং 'মৃত্যুক্ষুধা' দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জীবন নিয়ে রচিত উপন্যাস।
'উৎক্ষেপণ' শব্দের 'উৎ' উপসর্গ কোন্ অর্থ ধারণ করছে? [৪৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (জেনারেল পার্ট)]
'উৎক্ষেপণ' শব্দটির ব্যাসবাক্য বা ভাঙলে পাওয়া যায় উৎ + ক্ষেপণ। এখানে 'উৎ' উপসর্গটি 'ঊর্ধ্ব' (উপরে) অর্থ প্রকাশ করে (যেমন: উৎক্ষেপণ মানে উপরে নিক্ষেপ করা)।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শব্দের শুরুতে মাত্রাযুক্ত এ-কার ব্যবহার করতেন কেন? [৪৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (জেনারেল পার্ট)]
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা বানানে ও উচ্চারণে ভিন্নতা আনার জন্য এবং শব্দের শুরুতে 'এ' বর্ণটির নিজস্ব স্বাভাবিক উচ্চারণ (যেমন: এক, এখन) ও বিবৃত 'অ্যা' (যেমন: ব্যাধি, গ্যাস) উচ্চারণ স্পষ্ট করার জন্য শব্দের শুরুতে মাত্রাযুক্ত এ-কার ব্যবহার করতেন। মূলত বাংলা বর্ণমালায় 'এ' মাত্রাহীন বর্ণ হওয়ায় শব্দের শুরুতে বিভ্রান্তি দূর করতে তিনি এই প্রবর্তন করেছিলেন।
কোন শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠিত? [৪৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (জেনারেল পার্ট)]
'সত্যকে স্বীকার করতে অনেক ব্যক্তিরাই চায়না।'- এখানে ভুল ঘটেছে- [৪৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (জেনারেল পার্ট)]
'সত্যকে স্বীকার করতে অনেক ব্যক্তিরাই চায়না'—এই বাক্যে দুটি বড় ভুল রয়েছে: প্রথমত, 'ব্যক্তিরাই' শব্দে বহুবচনের প্রত্যয় 'রা' এবং 'এ' বিভক্তি একসাথে দ্বিরুক্তি দোষ ঘটিয়েছে (বানান/প্রয়োগগত ভুল); দ্বিতীয়ত, 'অনেক' শব্দের সাথে আবার বহুবচনবাচক 'রাই' যুক্ত করা বাহুল্য বা বচনঘটিত ভুল। তাই এখানে বানান ও বচনের ভুল ঘটেছে।
পরিভাষিক শব্দ বলতে বুঝায়- [৪৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (জেনারেল পার্ট)]
পরিভাষিক শব্দ বলতে এমন শব্দকে বোঝায় যা কোনো বিশেষ জ্ঞানশালায়, বিজ্ঞানে বা শাস্ত্রে সুনির্দিষ্ট ও নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ, পরিভাষিক শব্দ হলো বিষয়গত সুনির্দিষ্ট অর্থবোধক শব্দ।
'মৃগয়া' শব্দের মৃগ বলতে কি বোঝানো হয়? [৪৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (জেনারেল পার্ট)]
'মৃগয়া' শব্দের মূল বা উৎস শব্দ হলো 'মৃগ'। এখানে 'মৃগ' বলতে সাধারণ অর্থে 'পশু'-কে বোঝানো হয়েছে। মৃগয়া শব্দের অর্থ পশু শিকার করা।
কোন শব্দটি বিসর্গসন্ধির মাধ্যমে গঠিত? [৪৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (জেনারেল পার্ট)]
'নীরব' শব্দটি বিসর্গসন্ধির মাধ্যমে গঠিত। এর সন্ধিচ্ছেদ হলো: নিঃ + রব = নীরব। এখানে বিসর্গ (ঃ) এর পরে 'র' থাকায় বিসর্গ লোপ পেয়ে আগের স্বরধ্বনি দীর্ঘ হয়েছে। অন্যদিকে, উজ্জ্বল (উৎ + উজ্জ্বল) ব্যঞ্জনসন্ধি, সংগ্রাম (সম্ + গ্রাম) ব্যঞ্জনসন্ধি।
ভাষার অর্থযুক্ত ক্ষুদ্রতম একক কোনটি? [৪৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (জেনারেল পার্ট)]
ভাষার অর্থযুক্ত ক্ষুদ্রতম একক হলো রূপমূল (Morpheme)। এটি শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশ যা অর্থের দ্যোতনা প্রকাশ করে। অন্যদিকে ধ্বনি হলো ভাষার অর্থহীন ক্ষুদ্রতম একক।
ধ্বনি ও বর্ণের পার্থক্য কোথায়? [৪৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (জেনারেল পার্ট)]
ধ্বনি ও বর্ণের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যে। ধ্বনি হলো যা কান দিয়ে শোনা যায় (শ্রবণগ্রাহ্য) এবং বর্ণ হলো যা চোখ দিয়ে দেখা যায় (দর্শনগ্রাহ্য বা রূপ)। অর্থাৎ ধ্বনি উচ্চারিত ও শ্রাব্য, আর বর্ণ লিখিত ও দৃশ্যমান।
চর্যাপদের খণ্ডিত পদগুলো তিব্বতি থেকে প্রাচীন বাংলায় রূপান্তর করেন- [৪৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (জেনারেল পার্ট)]
চর্যাপদের খণ্ডিত পদগুলো তিব্বতি অনুবাদ থেকে প্রাচীন বাংলায় রূপান্তর বা আবিষ্কার করেন সুকুমার সেন। তিনি ১৯৩৮ সালে তিব্বতীয় অনুবাদ থেকে চর্যাপদের কিছু অংশ বাংলায় প্রকাশ করেন। অন্যদিকে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবার থেকে চর্যাপদের মূল পুথি আবিষ্কার করেন (১৯০৭)।
'স্বাধীন' শব্দের ব্যাসবাক্য কোনটি? [৪৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (জেনারেল পার্ট)]
'স্বাধীন' শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য হলো স্ব-এর অধীন। এখানে 'স্ব' মানে নিজের। নিজের অধীন = স্বাধীন (নিত্য সমাস বা অব্যয়ীভাবের নিয়মে সাধিত)।
ফররুখ আহমদের গ্রন্থ কোনটি? [৪৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (জেনারেল পার্ট)]
কবি ফররুখ আহমদের একটি বিখ্যাত শিশুতোষ গ্রন্থ হলো 'হরফের ছড়া'। তার অন্যান্য বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'সাত সাগরের মাঝি', 'মোহাম্মদী রোড' ইত্যাদি।