যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলা ও সাধারণ জ্ঞানে বেশিরভাগ প্রার্থীর নম্বর কাছাকাছি থাকে। কিন্তু যিনি গণিত ও ইংরেজিতে ভালো নম্বর অর্জন করেন, তিনিই মূলত চাকরি নিশ্চিতের দৌড়ে এগিয়ে যান। গণিত ও ইংরেজির ভয় দূর করার বাস্তবসম্মত ৫টি পদক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. শর্টকাটের পেছনে না ছুটে বেসিক বা মূল নিয়ম বুঝুন
অনেকেই শুরুতেই বিভিন্ন বইয়ের শর্টকাট টেকনিক মুখস্থ করার চেষ্টা করেন। প্রশ্ন সামান্য ঘুরিয়ে দিলেই শর্টকাট আর কাজ করে না। তাই প্রথমে ট্রেডিশনাল নিয়মে সমাধান বুঝুন। একবার যখন নিয়ম মাথায় গেঁথে যাবে, তখন নিজের মস্তিষ্কেই দ্রুত সমাধানের শর্টকাট তৈরি হয়ে যাবে।
২. বোর্ড বই (৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি) শেষ করুন
চাকরির গণিতের সিংহভাগই ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির পাঠ্যবই থেকে আসে। বিশেষ করে ৮ম ও ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের পাটিগণিত এবং বীজগণিত উদাহরণসহ সমাধান করুন। এতে গণিতের মৌলিক ভিত্তি শক্ত হবে।
৩. ইংরেজির জন্য ‘রুলস’ মুখস্থ না করে বাক্যে প্রয়োগ শিখুন
শুধু গ্রামারের নিয়ম মুখস্থ করলে পরীক্ষার হলে কনফিউশন তৈরি হয়। প্রতিটি নিয়মের সাথে ৩-৪টি উদাহরণ পড়ুন এবং নিজে বাক্য তৈরি করার চেষ্টা করুন। যেমন Subject-Verb Agreement এর ক্ষেত্রে Singular Subject কীভাবে Singular Verb নেয়, তা বিভিন্ন বাক্যে লক্ষ করুন।
৪. ভোকাবুলারি মনে রাখার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি (Spaced Repetition)
একদিন ১০০ শব্দ মুখস্থ করে ৩ দিন পর ভুলে যাওয়ার চেয়ে প্রতিদিন মাত্র ১০টি শব্দ অর্থ, সিনোনিম ও অ্যান্টোনিমসহ পড়ুন। প্রতি ৩ দিন ও ৭ দিন পরপর পূর্বের শব্দগুলো রিভিশন দিন। শব্দের রুট ওয়ার্ড (Root Words) এবং প্রিফিক্স-সাফিক্স ধরে পড়লে মুখস্থ করা অনেক সহজ হয়।
৫. প্রতিদিন অন্তত ২০টি গণিত ও ২০টি ইংরেজি এমসিকিউ সমাধান করুন
তত্ত্ব জানার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অনুশীলন। প্রতিদিন সকালে বা পড়ার শুরুতে ১ ঘণ্টা গণিত এবং ১ ঘণ্টা ইংরেজি রাখুন। বিগত ১০-১৫ বছরের বিসিএস ও পিএসসির প্রশ্ন বারবার সমাধান করুন।
পরামর্শ: বিডিনিয়োগ ওয়েবসাইটের বিষয়ভিত্তিক ক্যাটাগরিতে গিয়ে ইংরেজি ও গণিতের বিগত সালের প্রশ্নগুলো 'কুইজ মোড' এ প্র্যাকটিস করুন। এতে আপনার দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে সুবিধা হবে।