সহকারী রেজিস্টার - সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ২০২৬

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের 'সহকারী রেজিস্টার' পদে নিয়োগের এই লিখিত পরীক্ষাটি আপনার চিকিৎসাসেবা ও সরকারি ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে একটি সুবর্ণ সুযোগ। সাধারণত এই পদগুলোর লিখিত পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট মেডিকেল বিষয়ের কোর কনসেপ্ট, পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট লেভেলের প্রশ্ন এবং সাম্প্রতিক চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কিত বিষয়গুলোর ওপর গভীর মূল্যায়ন করা হয়। তাই বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে মূল সিলেবাস রিভিশন দেওয়ার পাশাপাশি সময় ধরে উত্তর লেখার অভ্যাসই আপনাকে এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফলতার দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবে। আত্মবিশ্বাস ও সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলুন, শুভকামনা!

পূর্ণমান: 200
প্রশ্ন: 3
সময়: 240মি.
মূল নির্দেশনা ও প্রশ্ন ৩টি সাব-প্রশ্ন
সাধারণ জ্ঞান (বিষয় কোড: ১০৪) - ৪ নং প্রশ্ন
উত্তর / সমাধান:
আরব বসন্ত (Arab Spring): ২০১০ সালের শেষের দিকে তিউনিসিয়ায় শুরু হয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার আরব দেশগুলোতে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে যে গণঅভ্যুত্থান, বিক্ষোভ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছিল, তাকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে 'আরব বসন্ত' বলা হয়। ২০১০ সালের ১৭ ডিসেম্বর তিউনিসিয়ার ফেরিওয়ালা মোহাম্মদ বুয়াজিজির আত্মাহুতির মাধ্যমে এর সূচনা হয় এবং তা মিশর, লিবিয়া, ইয়েমেন, সিরিয়া ও বাহরাইনে ছড়িয়ে পড়ে।

আরব বসন্তের মূল কারণসমূহ:
১. দীর্ঘস্থায়ী স্বৈরশাসন ও একনায়কতন্ত্র: দশকের পর দশক ধরে জয়নাল আবেদিন বেন আলী (তিউনিসিয়া), হোসনি মোবারক (মিশর) ও মুয়াম্মার গাদ্দাফির (লিবিয়া) মতো শাসকদের একচ্ছত্র দমন-পীড়ন ও গণতন্ত্রহীনতা।
২. চরম দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি: রাষ্ট্রীয় সম্পদ শাসকগোষ্ঠীর কুক্ষিগত হওয়া এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে লাগামহীন দুর্নীতি।
৩. বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকট: শিক্ষিত যুবসমাজের মধ্যে তীব্র বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি।
৪. মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বাকস্বাধীনতা হরণ: জরুরি আইন জারি রেখে নাগরিক অধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করা।
৫. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা: ফেসবুক, টুইটার ও ইউটিউবের মাধ্যমে তরুণ সমাজ দ্রুত সংগঠিত হতে এবং বিশ্ববাসীর কাছে সরকারি নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছিল।
উত্তর / সমাধান:
মানব নিরাপত্তা (Human Security): প্রথাগত রাষ্ট্রীয় বা সামরিক নিরাপত্তার ধারণার বাইরে গিয়ে মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার, মর্যাদা এবং সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার আধুনিক ধারণাকে 'মানব নিরাপত্তা' বলে। ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (UNDP) মানব উন্নয়ন প্রতিবেদনে ড. মাহবুব উল হক সর্বপ্রথম এই ধারণাটি সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। এর মূল ভিত্তি দুটি: 'ভয় থেকে মুক্তি' (Freedom from fear) এবং 'অভাব থেকে মুক্তি' (Freedom from want)।

মানব নিরাপত্তার প্রধান ৭টি উপাদান:
১. অর্থনৈতিক নিরাপত্তা (Economic Security): প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক আয়ের নিশ্চয়তা এবং দারিদ্র্য ও বেকারত্ব থেকে মুক্তি।
২. খাদ্য নিরাপত্তা (Food Security): সকল মানুষের জন্য সবসময় নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের লভ্যতা ও ক্রয়ক্ষমতা থাকা।
৩. স্বাস্থ্য নিরাপত্তা (Health Security): সংক্রামক ও অসংক্রামক ব্যাধি থেকে সুরক্ষা এবং সুলভে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার।
৪. পরিবেশগত নিরাপত্তা (Environmental Security): জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বায়ু ও পানি দূষণ থেকে মানুষের আবাসস্থল ও প্রকৃতিকে রক্ষা করা।
৫. ব্যক্তিগত নিরাপত্তা (Personal Security): সহিংসতা, অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, পারিবারিক নির্যাতন এবং শারীরিক নিপীড়ন থেকে ব্যক্তির সুরক্ষা।
৬. সম্প্রদায়গত নিরাপত্তা (Community Security): জাতিগত, ধর্মীয় বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিচয়ের সুরক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।
৭. রাজনৈতিক নিরাপত্তা (Political Security): রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন থেকে মুক্তি, মৌলিক মানবাধিকার ও ভোটাধিকার সংরক্ষণ।
উত্তর / সমাধান:
ট্রানজিট (Transit): কোনো একটি দেশের যানবাহন ও পণ্য যখন নির্দিষ্ট শুল্ক বা মাশুল প্রদানের মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ হয়ে দ্বিতীয় কোনো দেশের ভূখণ্ড, জলপথ বা আকাশপথ ব্যবহার করে তৃতীয় কোনো দেশে বা নিজ দেশেরই অপর কোনো অংশে সরাসরি যাতায়াত করে, তখন তাকে ট্রানজিট বলে। ট্রানজিটের ক্ষেত্রে পণ্যবাহী যানবাহন পরিবর্তন করা হয় না; অর্থাৎ প্রথম দেশের নিজস্ব ট্রাক বা জাহাজ সরাসরি গন্তব্যে পৌঁছায়। যেমন: ভারতের কলকাতা থেকে ভারতীয় ট্রাক বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সরাসরি আগরতলায় প্রবেশ করলে তা ট্রানজিট।

ট্রান্সশিপমেন্ট (Transshipment): একটি দেশের পণ্য যখন অপর কোনো দেশের সীমান্ত বা বন্দরে এসে প্রথম দেশের যানবাহন থেকে খালাস করে দ্বিতীয় দেশের নিজস্ব যানবাহনে (ট্রাক, ট্রেন বা জাহাজ) তুলে গন্তব্যে পৌঁছানো হয়, তখন তাকে ট্রান্সশিপমেন্ট বলে। এতে স্বাগতিক দেশের পরিবহন খাত ও শ্রমিকরা সরাসরি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয় এবং জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি কম থাকে। যেমন: ভারতীয় জাহাজ চট্টগ্রাম বা মোংলা বন্দরে পণ্য খালাস করার পর তা বাংলাদেশের নিজস্ব ট্রাক বা রেলের মাধ্যমে আখাউড়া হয়ে ভারতের ত্রিপুরায় পরিবহন করা হলো ট্রান্সশিপমেন্ট।