সহকারী রেজিস্টার - সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ২০২৬

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের 'সহকারী রেজিস্টার' পদে নিয়োগের এই লিখিত পরীক্ষাটি আপনার চিকিৎসাসেবা ও সরকারি ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে একটি সুবর্ণ সুযোগ। সাধারণত এই পদগুলোর লিখিত পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট মেডিকেল বিষয়ের কোর কনসেপ্ট, পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট লেভেলের প্রশ্ন এবং সাম্প্রতিক চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কিত বিষয়গুলোর ওপর গভীর মূল্যায়ন করা হয়। তাই বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে মূল সিলেবাস রিভিশন দেওয়ার পাশাপাশি সময় ধরে উত্তর লেখার অভ্যাসই আপনাকে এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফলতার দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবে। আত্মবিশ্বাস ও সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলুন, শুভকামনা!

পূর্ণমান: 200
প্রশ্ন: 3
সময়: 240মি.
মূল নির্দেশনা ও প্রশ্ন ৩টি সাব-প্রশ্ন
সাধারণ জ্ঞান (বিষয় কোড: ১০৪) - ১ নং প্রশ্ন
উত্তর / সমাধান:
সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র: বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা বর্তমানে একটি জাতীয় দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। বিআরটিএ (BRTA) এবং যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাম্প্রতিক (২০২৫-২০২৬) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর কয়েক হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন এবং অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। বিশেষ করে মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অবৈধ থ্রি-হুইলার (নসিমন, করিমন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা), মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতি এবং অদক্ষ চালকদের কারণে দুর্ঘটনার হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় পদক্ষেপসমূহ:
১. আইনের কঠোর প্রয়োগ: 'সড়ক পরিবহন আইন'-এর যথাযথ ও নিরপেক্ষ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
২. দক্ষ চালক তৈরি: ভুয়া লাইসেন্স প্রদান বন্ধ করে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ চালক তৈরি এবং চালকদের নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও বিশ্রাম নিশ্চিত করা।
৩. যানবাহনের ফিটনেস ও গতি নিয়ন্ত্রণ: মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়ক থেকে অপসারণ এবং মহাসড়কে স্পিডগান ও সিসিটিভির মাধ্যমে গতি নিয়ন্ত্রণ করা।
৪. সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন: মহাসড়কগুলোকে ডিভাইডারসহ চার বা ছয় লেনে উন্নীত করা, বিপজ্জনক বাঁক সোজা করা এবং ধীরগতির যানবাহনের জন্য আলাদা সার্ভিস লেন তৈরি করা।
৫. জনসচেতনতা বৃদ্ধি: পথচারীদের ফুটওভার ব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহারে বাধ্য করা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলা।
উত্তর / সমাধান:
মধ্যম আয়ের দেশের বৈশিষ্ট্য: বিশ্বব্যাংকের মাথাপিছু জাতীয় আয়ের (GNI per capita) শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী যেসব দেশের মাথাপিছু আয় নির্দিষ্ট সীমার (বর্তমানে প্রায় ১,১৪৬ ডলার থেকে ১৪,০০৫ ডলারের মধ্যে) অন্তর্ভুক্ত, সেগুলোকে মধ্যম আয়ের দেশ (নিম্ন-মধ্যম ও উচ্চ-মধ্যম) বলা হয়। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১. কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে শিল্প ও সেবাখাতনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর।
২. দারিদ্র্যের হার হ্রাস এবং মাথাপিছু আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি।
৩. উন্নত ভৌত অবকাঠামো, শিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং গড় আয়ু বৃদ্ধি।

মধ্যম আয়ের দেশ (এবং এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী) হিসেবে বাংলাদেশের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ বা সমস্যাসমূহ:
১. শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা হ্রাস: ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ উন্নত দেশগুলোতে তৈরি পোশাক ও অন্যান্য পণ্যের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত (DFQF) বা জিএসপি সুবিধা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে, ফলে রপ্তানি খাতে প্রতিযোগিতা বাড়বে।
২. সহজ শর্তে ঋণ প্রাপ্তি হ্রাস: বৈদেশিক অনুদান এবং বিশ্বব্যাংক বা এডিবির কাছ থেকে স্বল্প সুদে বা নমনীয় শর্তে (Concessional loan) ঋণ পাওয়ার সুযোগ কমে যাবে; বাণিজ্যিক হারে ঋণ নিতে হবে।
৩. মেধাস্বত্ব (TRIPS) ছাড় বাতিল: ওষুধ শিল্পে পেটেন্ট বা মেধাস্বত্ব আইনের কঠোরতা কার্যকর হলে দেশে ওষুধের উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে।
৪. মধ্যম আয়ের ফাঁদ (Middle Income Trap): দক্ষ মানবসম্পদ ও প্রযুক্তির উদ্ভাবন ঘটাতে না পারলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থবির হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
উত্তর / সমাধান:
নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable Energy): যে শক্তির উৎস নিঃশেষ হয়ে যায় না এবং ব্যবহারের পর প্রকৃতি থেকে পুনরায় পাওয়া যায় ও পরিবেশে কার্বন নিঃসরণ করে না, তাকে নবায়নযোগ্য শক্তি বলে। যেমন: সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস ও জিওথার্মাল শক্তি।
বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য শক্তির সম্ভাবনা:
১. সৌরশক্তি (Solar Energy): ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে বছরজুড়ে প্রচুর সূর্যালোক পাওয়া যায়। সোলার হোম সিস্টেম (SHS), সোলার ইরিগেশন পাম্প এবং বড় আকারের সোলার পার্ক (যেমন: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও ফেনীর সোনাগাজী সোলার প্রজেক্ট) এবং শিল্পকারখানার ছাদে নেট মিটারিং রুফটপ সোলার স্থাপনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।
২. বায়ুশক্তি (Wind Energy): বাংলাদেশের ৭২০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলীয় অঞ্চলে (বিশেষ করে কক্সবাজার, কুতুবদিয়া, পটুয়াখালী ও মোংলা) বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে কক্সবাজারে দেশের বৃহত্তম বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হয়েছে।
৩. বায়োমাস ও বায়োগ্যাস: কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ায় ধানের তুষ, কৃষিজ বর্জ্য এবং পশুপালনের বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
৪. বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ (Waste to Energy): ঢাকা ও বড় সিটি কর্পোরেশনগুলোর বর্জ্য ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ রোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।